টানা সপ্তম মাসের মতো অক্টোবরে সংকুচিত হয়েছে চীনের কারখানা খাতের কার্যক্রম। এর প্রধান কারণ হিসেবে নতুন রফতানি ক্রয়াদেশের মন্দাকে উল্লেখ করছেন বিশ্লেষকরা। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের শুল্ক আরোপের হুমকির মুখে চলতি বছরের শুরুতে চীনে আগাম ক্রয়াদেশ বাড়িয়ে দিয়েছিলেন দেশটির ব্যবসায়ীরা, এর প্রভাব দেখা যাচ্ছে পরবর্তী মাসগুলোয়। খবর রয়টার্স।
এ বিষয়ে গতকাল বিস্তারিত তথ্য প্রকাশ করে চীনের ন্যাশনাল ব্যুরো অব স্ট্যাটিস্টিকস (এনবিএস)। সেখানে দেখা যায়, গত মাসে দেশটিতে পারচেজিং ম্যানেজারস ইনডেক্স (পিএমআই) নেমে এসেছে ৪৯-এ, যা সেপ্টেম্বরের ৪৯ দশমিক ৮ থেকে কম এবং ছয় মাসের মধ্যে সর্বনিম্ন।
প্রসঙ্গত, পিএমআই সূচকমান ৫০-এর নিচে থাকলে তা কারখানা কার্যক্রম সংকুচিত হওয়ার ইঙ্গিতবাহী। এর আগে রয়টার্সের জরিপে চীনে এ সূচকমান নিয়ে বিশ্লেষকদের গড় পূর্বাভাস ছিল ৪৯ দশমিক ৬।
বিশ্বের বৃহত্তম ভোক্তা অর্থনীতি যুক্তরাষ্ট্র, যা চীনা রফতানির শীর্ষ গন্তব্য। নীতিনির্ধারকরা আশা করেছিলেন, স্থানীয় ভোক্তা চাহিদা ও বিনিয়োগ তুলনামূলকভাবে দুর্বল থাকলেও যুক্তরাষ্ট্রে আগাম পণ্য পাঠিয়ে সেই ঘাটতি পূরণ হবে এবং সামগ্রিক অর্থনীতি স্থিতিশীল থাকবে। কিন্তু পরে দেখা গেছে, এটি ছিল সাময়িক সমাধান। আগাম রফতানি দিয়ে কিছু সময়ের জন্য প্রবৃদ্ধি বাড়ানো গেলেও পরে ক্রয়াদেশ কমে গিয়ে বিপরীত প্রভাব পড়ে।
চীনা কারখানা মালিকরা এরই মধ্যে ইউরোপ, লাতিন আমেরিকা, মধ্যপ্রাচ্য ও আফ্রিকায় ব্যবসা সম্প্রসারণের সুযোগ খুঁজছেন। কিন্তু এসব দেশে কম দামে পণ্য বিক্রি করায় তাদের লোকসান বাড়ছে। তারা বলছেন, যুক্তরাষ্ট্রে বিক্রি হতো ৪০০ বিলিয়ন ডলারের পণ্য, তা অন্য কোনো বাজারে পূরণ করা সম্ভব হচ্ছে না।
গবেষণা প্রতিষ্ঠান ইকোনমিস্ট ইন্টেলিজেন্স ইউনিটের জ্যেষ্ঠ অর্থনীতিবিদ শু তিয়ানচেন বলেন, ‘চতুর্থ প্রান্তিকে (অক্টোবর-ডিসেম্বর) আমরা আরো কিছু প্রণোদনা আশা করছিলাম। এর মধ্যে রয়েছে নীতিনির্ভর অর্থায়ন প্রকল্প ও নতুন সরকারি বন্ডের মাধ্যমে বিনিয়োগ বৃদ্ধি। তাই অক্টোবরে পিএমআই এত কমে যাওয়া দেখে আমি কিছুটা অবাক।’
তিনি আরো বলেন, ‘সম্ভবত অক্টোবরে টানাপড়েনের প্রধান কারণ ছিল রফতানি। আগের মাসগুলোয় আগাম ক্রয়াদেশে পণ্য পাঠানোর প্রভাব হয়তো এখন উল্টোভাবে ফিরে এসেছে।’
অর্থনীতিবিদদের হিসাব অনুযায়ী, যুক্তরাষ্ট্রের বাজার হারানোর কারণে চীনের রফতানি প্রবৃদ্ধি প্রায় ২ শতাংশীয় পয়েন্ট কমেছে। জিডিপিতে এর প্রভাব প্রায় দশমিক ৩ শতাংশ।
চীনের অর্থনীতির আকার ১৯ ট্রিলিয়ন ডলার। অতিরিক্ত প্রণোদনা ছাড়া চীনা অর্থনীতি চলতি বছর ৫ শতাংশ প্রবৃদ্ধি লক্ষ্যমাত্রা অর্জনের পথে রয়েছে কিনা সেদিকেই এখন নীতিনির্ধারকদের নজর।
এদিকে অক্টোবরে চীনে শিল্পোৎপাদন বহির্ভূত খাতের পিএমআই পৌঁছেছে ৫০ দশমিক ১, এ সূচক সেপ্টেম্বরে ছিল ৫০। এর মধ্যে পরিষেবা খাতের সূচক সামান্য বেড়ে ৫০ দশমিক ২ হয়েছে। তবে নির্মাণ খাতের সূচক ৪৯ দশমিক ৩ থেকে কমে ৪৯ দশমিক ১-এ নেমে এসেছে।